Breaking News

সাঁথিয়ায় মুক্তিযোদ্ধার মেয়েকে পেট্রল ঢেলে হত্যার চেষ্টা, আটক-১৯

কলেজপড়ুয়া মেয়ে মুক্তির শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন
পাবনার সাঁথিয়ায় পূর্ববিরোধের জের ধরে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা চালিয়ে কলেজপড়ুয়া মেয়ে মুক্তির শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। আহত মুক্তি খাতুনকে প্রথমে সাঁথিয়া ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
কলেজছাত্রী শরীরের ৬২ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এ ঘটনায় সাঁথিয়া থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নাগডেড়া ইউনিয়নের নাগডেমরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার নাগডেমরা গ্রামের উন্মুক্ত জলাশয় দখলকে কেন্দ্র করে মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক ও সালাম গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এর জের ধরে রোববার দুপুরে সালামের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুক্তিযোদ্ধা মোজ্জাম্মেলের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধাসহ অন্যন্যা পুরুষ সদস্যরা বড়াল নদী পার হয়ে পালিয়ে যায়।
পুরুষদের না পেয়ে হামলাকারীরা পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের দর্শন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেলের মেয়ে মুক্তি খাতুনকে (২২) ঘর থেকে টেনে উঠানে নিয়ে শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় তার চাচাতো বোন আফরোজা খাতুন (৩০) এগিয়ে এলে তারা তাকেও পিটিয়ে আহত করে ফেলে রাখে। তারা ফিরে আসার সময় মুক্তিযোদ্ধার একটি ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়।
পরে আহত মুক্তি ও আফরোজাকে স্থানীয়রা সাঁথিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মুক্তিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডাক্তার জানান কলেজছাত্রী মুক্তির শরীরের ৬২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
এ ঘটনায় মুক্তির বাবা মুক্তিযোদ্ধা মোজ্জাম্মেল হক বাদী হয়ে ৩২ জনকে আসামি করে রোববার রাতে সাঁথিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন। পুলিশ রাতে ও সোমবার অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে আটক করেছে।
রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পাবনা পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম, বেড়া সার্কেল (এএসপি) আশিস বিন হাসান ও র‌্যাবের প্রতিনিধি দল।
আশিস বিন হাসান জানান, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। অগ্নিদগ্ধ কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই। এ ঘটনায় ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের আটকের জন্য পুলিশ ও ডিবির টিম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, উপজেলার নাগডেমরা গ্রামে উন্মুক্ত জলাশয় দখলকে কেন্দ্র করে সালাম ও মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক গ্রুপের মধ্যে গত ২৯ জুলাই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষই থানায় মামলা করে। এ বিরোধের জের ধরেই কলেজছাত্রীর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় প্রতিপক্ষরা।