বগুড়ায় নিজ ঘরে প্রবাসীর স্ত্রী-শিশুকন্যাকে গলা কেটে হত্যা
বগুড়া শহরের টিনপট্টি এলাকায় নিজ বাড়ির শয়ন ঘরে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী রুবিয়া খাতুন (২৬) তার একমাত্র শিশুকন্যা সুমাইয়া আকতারকে (৭) হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার রাতের কোনো এক সময় ঘাতকরা মেয়েকে গলাটিপে ও মাকে গলা-বুকে কাঁচি দিয়ে খুচিয়ে হত্যার পর পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডের কারণ বলতে পারেননি। তবে পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, পরকীয়া বা পারিবারিক বিরোধে এ জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, বগুড়া শহরের টিনপট্টি এলাকার মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে ইউসুফ আলী প্রায় ৯ বছর আগে শহরতলির বারপুর এলাকার আবদুল হামিদের মেয়ে রুবিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। তাদের সুমাইয়া আকতার নামে একমাত্র শিশুকন্যা রয়েছে।
ইউসুফ আলী প্রায় এক বছর আগে চাকরি নিয়ে সৌদি আরবে যান। বাড়িতে তার মা জুলেখা বেওয়া, ভাই কোরবান হোসেন, ভাবী রুনা, অপর ভাই সেলিম শেখ ও ভাবী রেহেনা তাদের সন্তানদের নিয়ে থাকেন। সোমবার রাতে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে রুবিয়াকে গলায় ও বুকে কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে খুঁচিয়ে ও মেয়ে সুমাইয়াকে গলাটিপে হত্যা করে। এরপর বাড়ির পিছনে (উত্তর পাশে) ওই ঘর সংলগ্ন সরু দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।
ফজরের নামাজ আদায় করতে উঠে শাশুড়ি জুলেখা ছেলের বউ ও নাতনিকে খুনের ঘটনা টের পান। খবর পেয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাড়িতে ছুটে আসেন।
মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে সদর থানার পুলিশ মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
বগুড়া সদর থানার এসআই মঞ্জুরুল হক ভূঁইঞা জানান, কাঁচি দিয়ে গলায় আঘাত করে রুবিয়াকে এবং শিশু সুমাইয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কারণ বলতে পারেননি। তার ধারনা, পারিবারিক বিরোধ বা পরকীয়ার কারণে এ জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে।
নিহত রুবিয়ার মা বেলী জানান, সোমবার মাগরিব নামাজের সময় মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তবে কী কারণে নানতিসহ মেয়ে খুন হয়েছেন সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারেননি।
তবে ফুফু নিপা ও ফুফা রাজু মিয়া জানান, রুবিয়ার সঙ্গে জা রেহেনার সম্পর্ক খারাপ ছিল। তাদের ধারণা, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অবশ্যই বাড়ির লোকজন জড়িত আছেন।
রেহেনা জানিয়েছেন, এ হত্যার ব্যাপারে তাদের কিছু জানা নেই। রাতে খাবার পর ১১টার দিকে সবাই ঘুমাতে যান। তারা রাতে কিছুই টের পাননি।
সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানান, তদন্ত চলছে। কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। বেলা ১২টায় এ খবর পাঠানোর পর্যন্ত মামলা হয়নি
